রাজধানীর খিলক্ষেতে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন থেকে আটক ৮৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আটক ২৬ নারীকে ১৫ দিন করে এবং অন্য ৫৯ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে ভাটারা থানার অধীন পুলিশ হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকায় জহিরের কনটেইনার দিয়ে তৈরি ডুপ্লেক্স বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই সময় বাড়িটিতে ডিজে পার্টির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন চলছিল বলে জানায় পুলিশ। অভিযান শেষে সেখান থেকে মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অনলাইনে এয়ারবিএনবি অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি জহির। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে রাতযাপন কিংবা পার্টি করার জন্য বাড়িটি ভাড়া নিতেন। পুলিশের দাবি, তরুণ-তরুণীদের ডিজে পার্টির আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত এবং সেবন করা হতো মাদকদ্রব্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ হাউজিং সোসাইটি-১-এর ভেতরে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বাড়িটির দূরত্ব প্রায় ৫০ গজ। অভিযানের রাতে পার্টিতে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ছয়টি ব্যক্তিগত গাড়ি তখনো বাড়িটির পাশে পড়ে ছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, পার্টিতে থাকা ২৬ নারী ছিলেন ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী। তাঁদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীও ছিলেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একজন ব্যাংকারও ছিলেন বলে জানান তিনি।
ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য, ডিজে পার্টির নামে গান বাজিয়ে নাচের আয়োজন করা হতো। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ অর্ধনগ্ন অবস্থায় নাচছিলেন এবং শিসা সেবনের ধোঁয়ায় ঘর আচ্ছন্ন ছিল। তাঁর দাবি, সেখানে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি অনুষ্ঠান হতো এবং অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন করা হতো।
অন্যদিকে, বাড়িতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলত, তা জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। তাঁর বক্তব্য, জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ভাড়াটিয়া সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এমন কিছু জানতে পারলে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াকে বের করে দিতেন এবং পরবর্তী সময়ে আর বাড়ি ভাড়া দিতেন না।
২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশ