রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাজারীবাগ থানা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৭০ থেকে ৮০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হয়। পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হাজারীবাগের শিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে মেন্ডী ডেন্টাল রোডে প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউজে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরা প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি ২৩টি মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে মাত্র ১৮ মিনিট ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
জমির ভাড়া নিয়ে বিরোধ থেকেই এ হামলার সূত্রপাত বলে দাবি করেছে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেওয়া হয়। এরপর থেকে চুক্তির শর্ত মেনেই নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ভবিষ্যতে জমির ভাড়া শিকদার গ্রুপকে না দিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে চাপ দেন। তাঁদের এ দাবি মেনে না নিলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় ওয়্যারহাউজ ও অফিসের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের পাশাপাশি গ্রাহকদের পার্সেল, মূল্যবান সরঞ্জাম, আসবাব এবং কয়েকটি ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) লুট করা হয় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়্যারহাউজটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি যানবাহনে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পাঠানো হয়। হামলার ফলে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়ার পর হাজারীবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। এতে ৭০ থেকে ৮০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও অভিযোগে সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশ